দীর্ঘদিন ধরেই সংকটে দেশের পুঁজিবাজার। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) শক্তিশালী করে পুঁজিবাজারের উন্নয়নের বিষয়টি নিয়ে ভাবছে অন্তর্বর্তী সরকার। পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সংস্কার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলরুমে পুঁজিবাজার অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। সভায় অংশীজনরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পুঁজিবাজারের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে এবং তা সমাধানের উপায়সহ একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে আগামী ১৫ মের মধ্যে পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটির কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার তথা পরিবর্তনের জন্য কাজ করছেন। পুঁজিবাজারের উন্নয়ন না হলে দেশ এগোতে পারবে না। শুধু বিদেশী অনুদাননির্ভর না হয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য যে তহবিল বা বিনিয়োগ প্রয়োজন তা দেশের মধ্য থেকেই সংগ্রহ করতে হবে এবং সেজন্যই দেশের পুঁজিবাজারের উন্নতি দরকার। পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই একসঙ্গে পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য কাজ করব।’
মতবিনিময় সভায় পুঁজিবাজারের আইনগত কাঠামো, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, ইকো-সিস্টেম, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বাজারের তুলনামূলক চিত্র, চ্যালেঞ্জ, নেগেটিভ ইকুইটি, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা ও সহজীকরণ না করা, সরকারি ও বহুজাতিক মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়া, লোকসানে থাকা সত্ত্বেও ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বাধ্যতামূলক উৎসে কর প্রদান, সঞ্চয়পত্রের সুদহার বেশি থাকায় বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন না ঘটা, বিএসইসির জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এসব সমস্যা কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন অংশীজনরা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর ও ফারজানা লালারুখ এবং পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটির সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকুল ইসলাম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাঈদ কুতুব। এছাড়া বিভিন্ন বাজার অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি প্রয়োজন। দেশের পুঁজিবাজার গত ১৫ বছরে ভালো কোম্পানি পায়নি। ভালো কোম্পানিকে বাজারে নিয়ে আসাও চ্যালেঞ্জ। ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য বিএসইসি চেষ্টা চালাচ্ছে। পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের সুপারিশের আলোকে খুব দ্রুতই পাবলিক ইস্যু রুলস সংস্কার করা হবে, যা ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিশ্চিতে সহায়ক হবে।’
উল্লেখ্য, দেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে গত ১৭ মার্চ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীকে সভাপতি করে পুঁজিবাজার উন্নয়নে কমিটি গঠন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
চার সদস্যের এ কমিটি দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিএসইসিকে অধিকতর শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয়বারের মতো পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে এ কমিটি।